দিশেহারা যে মোর মন

দিশেহারা যে মোর মন
কীসে সার্থক এ জীবন
খুঁজে ফিরি কোথা নেব ঠাঁই,
চারিদিকে সবাই মোর
কেউ ভাল, কেউ মন্দ ঘোর
আপন মান যেচে সেথা বেড়াই।
মনে ভাবনা তবু ঘিরে রয়েছে সদাই
এত চাওয়া নিয়ে কোথা যাই?

কেউ বা মাথায় কেউ পিঠে
আমার বোলায় হাত মিঠে
দিয়ে যায় কত না বাহবাই,
কারও সন্দেহ অতি
শেষে হল এই গতি
গেল কি বিফলে জীবনটাই?
মনে ভাবনা তবু ঘিরে রয়েছে সদাই
এত চাওয়া নিয়ে কোথা যাই?

পাগল হয়ে যে আমি
দামি হই, আরও দামি
কত দাম জানি না আমার চাই,
নেবে কে কিনে আমায়
তাতে কী বা আসে যায়
থেমে যেতে ভরসা না পাই।
মনে ভাবনা তবু ঘিরে রয়েছে সদাই
এত চাওয়া নিয়ে কোথা যাই?

ছিল বন্ধু এক আমার
পেলেম হঠাৎ দেখা তার
ভবঘুরে চালাচুলো নাই,
তবু খুশির হাসির রেশ
ঠোঁটে হয় না যে তার শেষ
কী তার দাম সে করে নি যাচাই।
মনে ভাবনা তবু ঘিরে রয়েছে সদাই
এত চাওয়া নিয়ে কোথা যাই?

শোনো যদি কোনও দিন
আমি হঠাৎ ভাবনাহীন
রাখিনি মোর কোনও ঠিকানাই,
জেনো খোঁজা আমার শেষ
তাই হলেম যে নিরুদ্দেশ
সাথে করে শুধু হৃদয়টাই।
মনে ভাবনা তবু ঘিরে রয়েছে সদাই
এত চাওয়া নিয়ে কোথা যাই?


কথাঃ অরুণেন্দু দাস । এলবামঃ মায়া । ব্যন্ডঃ মহীনের ঘোড়াগুলো

Advertisements

তাই জানাই গানে

জানাতে যত যাই কথায়, হারায় ততই মানে
ভালোবাসি তোমায়, তাই জানাই গানে।

কেন এমন যে মনে হয়,
কথা শুধুই কথা আর নয়
যেন উজাড় করে চায় দিতে আজ যা কিছু প্রাণে।
ভালোবাসি তোমায়, তাই জানাই গানে।

জানাতে যত যাই কথায়, হারায় ততই মানে…

কিছুতে হয় না বলা আর
শত কথায় যা বলার
বুঝি জানাতে চাই সব যারে মোর, আপনি সে জানে।
ভালোবাসি তোমায়, তাই জানাই গানে।

জানাতে যত যাই কথায়, হারায় ততই মানে…


কথাঃ অরুণেন্দু দাস । এলবামঃ ক্ষ্যাপার গান। ব্যন্ডঃ মহীনের ঘোড়াগুলো

সারা রাত

সারা রাত আমি হই শুধু আমার,
নির্ঘুম, নির্জনতায় বাড়ে আঁধার…

কাটে না, কাটে না, যে সময়
অস্থির ভাবনারা ঘিরে রয়।
অনুভব শুধু এক ব্যথাভার
নির্ঘুম, নির্জনতায় বাড়ে আঁধার….

সারা রাত আমি হই শুধু আমার,
নির্ঘুম, নির্জনতায় বাড়ে আঁধার…

পারে না, পারে না, কেন মন?
বেছে নিতে সুখেরও স্বপন,
আসে না, সে তো আর যে আসার
নির্ঘুম, নির্জনতায় বাড়ে আঁধার….

জানি না, জানি না, কেন হায়
কেড়ে নিতে, যা কিছু মন চায়
কিছুতে কি নেই ভালোবাসা?
নির্ঘুম, নির্জনতায় বাড়ে আঁধার….

সারা রাত আমি হই শুধু আমার,
নির্ঘুম, নির্জনতায় বাড়ে আঁধার…

কথাঃ অরুণেন্দু দাস । এলবামঃ ঝরা সময়ের গান। ব্যন্ডঃ মহীনের ঘোড়াগুলো

কে কে যাবি রে

পেরিয়ে মাঠের সীমানা ওই মেলা বসেছে,
চরকি ঘোরে, পাঁপড় ভাজায়
মাতালিয়া ঢোলকে মনকে মাতায়।
তোরা কে কে যাবি রে,
কে কে যাবি রে,
কে কে যাবি রে তোরা আয়।

পয়সা যদি নেই পকেটে ভাবনা কী আছে?
কিনতে মানা, চড়তে মানায়
ভিড়ে মেশা আনন্দের কি আসে যায়?
তোরা কে কে যাবি রে,
কে কে যাবি রে,
কে কে যাবি রে তোরা আয়।

একরঙা এই জীবন ছেড়ে একটু পালানোর
তার বেশি হায়, কেই বা কী চায়
বেচা-কেনার হিসেবে খুশির খেলায়।
মোরা সবাই যাব রে,
সবাই যাব রে,
সবাই যাব যেরে মেলায়।

তোরা কে কে যাবি রে,
কে কে যাবি রে,
কে কে যাবি রে তোরা আয়।

মোরা সবাই যাব রে,
সবাই যাব রে,
সবাই যাব যেরে মেলায়।

কথাঃ অরুণেন্দু দাস । এলবামঃ ঝরা সময়ের গান। ব্যন্ডঃ মহীনের ঘোড়াগুলো

কিসের এত তাড়া

যাস কোথা তুই, কীসের এত তাড়া?
কেন নিস না কানে বলছি একটু দাঁড়া…ওরে হেঁই!

যাস কোথা তুই…

চৈত্রবেলার কৃষ্ণচূড়া ফুল
ফাগুন খেলায় মেতেছে আকুল,
মাতাল কোকিল বসন্ত কুহুতানে
পাগল হাওয়ায় কোন সে দোলা আনে
প্রাণে কি তোর পাস না কিছুর সাড়া?
কেন নিস না কানে বলছি একটু দাঁড়া… ওরে হেঁই!

যাস কোথা তুই…

কোমল হাতের কাঁকন রিনিঝিন
সুরের আবেশ জাগায় সে রঙিন,
দুটি চোখের মদির ছোঁয়া তার
বাকি কিছুই রাখল না চাওয়ার
সময় এমন কেমনে যায় ছাড়া?
কেন নিস না কানে বলছি একটু দাঁড়া… ওরে হেঁই!

যাস কোথা তুই..

কথাঃ অরুণেন্দু দাস । এলবামঃ ঝরা সময়ের গান। ব্যন্ডঃ মহীনের ঘোড়াগুলো

ভিক্ষেতে যাবো

যত পেশা আছে দেখছি ভেবে ভিক্ষে করাই বেশ
নেই কোনও সময়ের শুরু, নেই তো কোনও শেষ
তাই ভিক্ষেতেই যাবো গো আমি, ভিক্ষেতেই যাবো।

নই কারও হুকুমের, নয় তো কেউ হুকুমের দাস
আপন মেজাজে সদা আপনি করি বাস।
তাই ভিক্ষেতেই যাবো গো আমি, ভিক্ষেতেই যাবো।

উন্নতির নেশা কিছু নেই, নেই পতনের ভয়
নেই কোনও দুরাশার ঠেলা, নেই কোনও সংশয়।
তাই ভিক্ষেতেই যাবো গো আমি, ভিক্ষেতেই যাবো।

বিষয় সঞ্চয় কিছু নেই, ভাবনাহীন নয়ন
যখনই শ্রান্ত এ দেহ, তখনই শয়ন
তাই ভিক্ষেতেই যাবো গো আমি, ভিক্ষেতেই যাবো।

চিনিতে সেদিন মোরে না চাও তো চেও না
কৃপা ভেবে মনে বৃথা হিংসা পেও না।
যবে ভিক্ষেতে যাব গো আমি, ভিক্ষেতে যাবো।


কথাঃ অরুণেন্দু দাস । এলবামঃ মায়া । ব্যন্ডঃ মহীনের ঘোড়াগুলো

গঙ্গা

ভেবেছিলাম এগিয়েছি যে অনেক
বয়ে বাসনা মোর একের পরে এক
মনে হঠাৎ যেন আজ হল খেয়াল
কেটেছে কাল,
ভেসে শুধুই আমার স্রোতের দোলায়।

ও গঙ্গা,
তুমি চলেছ ঢেউয়ে ঢেউয়ে কোথায়?
কখনও জোয়ারে আর কখনও ভাঁটায়
জানি রয়েছ দু তীরে বাঁধা হায়।

ভাবি এখন ছিল কোথায় যে যাওয়ার
মনে আশার তরী শুধুই কি বাওয়ার?
বুঝি নিশানা তার সুদূর দিগন্তেই,
আছে কি নেই
কোন সুখের হদিস কি জানি কোথায়।

ও গঙ্গা…

মোর গিটারে তাই সহজ হলো সুর
মনে চাইনা যেতে আর তো বহু দূর
আছি যেথায় বাঁধা সেথায় যেন দেশ,
জেনেছি বেশ
তাই ভালোবাসা আর কে বেশি পায়?

ও গঙ্গা…

——————————————-
কথাঃ অরুণেন্দু দাস। এলবামঃ আবার বছর কুড়ি পরে । ব্যন্ডঃ মহীনের ঘোড়াগুলো

ঋতুপর্ণা দাশ/ চন্দ্রিমা মিত্র/ পরমা ব্যানার্জীঃ এরা এখনো ছাত্রী… কেউ ইকনমিক্স, কেউ স্ট্যাটিস্টিক্‌স, কেউ বা ভূগোল। ওদের গাওয়া গান সব অর্থেই এই ক্যাসেটের এক বড় চমক- “ও গঙ্গা/ তুমি চলেছো ঢেউয়ে ঢেউয়ে কোথায়” অরণেন্দু দাশের লেখা ও সুরে। অরুণদা সেই কবেকার আগেকার এক নাগরিক চারণ। আমাদের সব্বার আগে, ঘোড়াদেরও আগে, এগিয়েছিলো তাঁর গান। পেশায় স্থপতি অরুণদা এখন ইংল্যান্ডবাসী, থাকেন কেন্ট-এ। যেখানেই যান না এ গান সেখানেই সত্যি। সেইখানেও বয়ে চলে গঙ্গা, জোয়ারে-ভাঁটায়, বনমাঝে কি মনমাঝে। সেই সত্যিকে তিনসত্যি করে তুলেছে এই কন্যারা। আর তাতে চতুর্থ মাত্রা দিয়েছেন প্রবীর দাশ, হারমোনিকের দোলায়, ঢেউয়ে ঢেউয়ে।